টানা ২০ বারের মতো পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় প্রায় ২০ বারের মতো সময় পেছানো হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির আব্দুল কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাদি হত্যা মামলায় গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে নির্বাচনি গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৪ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে।

ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে হাদিকে হত্যার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত ও ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে ওই অভিযোগপত্রে বাদী নারাজি দেওয়ার পর মামলাটি অধিকতর তদন্তে যায় সিআইডির কাছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমাই আবার পিছিয়ে ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করা হলো।