ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সহকারী শিক্ষক খালেকুজ্জামান সুজনের মুক্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কুমারুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষক চাঁন মিয়াসহ কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শিক্ষক খালেকুজ্জামান সুজন দত্তগ্রাম বাজারের একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। সেখানে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ওই শিক্ষক শ্লীলতাহানি করেছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, ছাত্রীর পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁন মিয়া বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শুক্রবার রাতে পুলিশ শিক্ষক খালেকুজ্জামান সুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলাটিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে শিক্ষার্থীরা সুজনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
রোববার দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।