যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় দুইশো বছর পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার আইনজীবীরা দণ্ড স্থগিত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিবিসিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পাইক তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটে সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। অভিযোগ, স্লেমারকে প্রথমে মারধর ও নির্যাতন করা হয়, তারপর হত্যা করা হয়। পরে পাইক এই হত্যাকাণ্ডের কথা অন্যদের কাছে গর্ব করে বলতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই মামলায় পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও শিপকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে প্যারোলের সুযোগসহ।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পরিবারের কেউ উপস্থিত থাকুক, সেটা চান না পাইক। তিনি চান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলটি যেন সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। টেনেসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে নির্ধারিত কারাগারে নারী কারারক্ষীদের মাধ্যমে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হবে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে। তিনি বলেছেন, মেয়ের আত্মা যেন শেষ পর্যন্ত শান্তি পায় সেটাই তার একমাত্র প্রত্যাশা। অন্যদিকে পাইকের আইনজীবীরা তার শাস্তির বিরুদ্ধে যুক্তি দিচ্ছেন। তাদের দাবি, একই অপরাধে কোনো কিশোরী আজ দোষী সাব্যস্ত হলে সম্ভবত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না। তারা পাইকের শৈশবের ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনাগুলোও আদালতের বিবেচনায় আনার চেষ্টা করছেন।
মনোবিজ্ঞানী ডায়ানা ম্যাককয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইক শৈশবে তার মায়ের সঙ্গী ও স্বামীদের হাতে নির্যাতিত হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে অন্তত দুবার ধর্ষণের শিকার হন। ২০২৩ সালে তার বিষয়ে গবেষণা করা মনোবিজ্ঞানী বেথানি ব্র্যান্ড বলেছেন, পাইককে এমন একাধিক ব্যক্তি নির্যাতন করেছেন, যাদের দায়িত্ব ছিল তাকে রক্ষা করা। আইনজীবীদের মতে, শৈশবে দীর্ঘস্থায়ী নির্যাতন পাইকের আচরণ ও মানসিক প্রতিক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড এখনও বহাল রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি অঙ্গরাজ্যে এখনও মৃত্যুদণ্ড বৈধ। ১৯৮২ পরবর্তী সময়ে এককভাবে টেক্সাসে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে, টেনেসিতে ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে।