রংপুরের পীরগাছায় শাশুড়ির সামনে চড় দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে হাসানুর রহমান (২২) থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। ঘটনার দুই দিন পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে পীরগাছা থানায় গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
নিহত ব্যক্তির নাম মাহাবুর রহমান ওরফে মহুবার। তিনি উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকার মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে হাসানুরের শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য তাদের বাড়িতে আসেন। তবে জামাই হাসানুর তাদের বসতে কিংবা খাওয়ার জন্য কোনো সৌজন্য প্রকাশ করেননি। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবা মাহাবুর রহমান শাশুড়িকে সম্মান দেখিয়ে খেতে ডাকার জন্য ছেলেকে নির্দেশ দেন। হাসানুর কথা না শুনলে ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়ির সামনেই ছেলেকে একটি চড় মারেন বাবা।
শাশুড়ির সামনে চড় মারার বিষয়টিকে অপমান মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হাসানুর। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি এনে বাবার বুকে বসিয়ে দেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত হন মাহাবুর রহমান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই হাসানুর পালিয়ে যান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে বিয়ে করা হাসানুর কোনো কাজকর্ম করতেন না এবং নিয়মিত মাদকাসক্ত ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাবাকে হত্যার পর থেকেই হাসানুর পলাতক ছিলেন। রোববার রাতে তিনি থানায় এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।