ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ের তিন মাসের মাথায় লামিয়া ইসলাম (১৪) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, লামিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী রনি শেখ ও শাশুড়ি সেখান থেকে চলে যান।
লামিয়া ইসলাম ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী সাহাপাড়া গ্রামের লিঠু মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের রনি শেখের স্ত্রী। লামিয়া মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে রনির সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন তিনি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর রনি আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় সাত দিন আগে লামিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজে পান। এরপর লামিয়া ও রনি রনির বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
রোববার রাতে রনির মা লামিয়ার নানাকে ফোন করে জানান, তার নাতনি মারা গেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে লামিয়ার মরদেহ দেখতে পান। নিহতের পরিবারের দাবি, এ সময় হাসপাতালে লাশ রেখে স্বামী ও শাশুড়ি চলে যান।
লামিয়ার বাবা লিঠু মাতুব্বর বলেন, পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তার মেয়ে বিয়ে করায় পরিবারের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং হাসপাতাল থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে সেখানে তাঁর স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার লামিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।