কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিকশিত হলে তা ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবক বিল গেটস।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন আইনপ্রণেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিল গেটস উল্লেখ করেন, এআই প্রযুক্তিতে কেবল স্ব-নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয় এবং সেফগার্ড ও পর্যবেক্ষণের বিষয়ে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা আবশ্যক। খারাপ উদ্দেশ্যে শক্তিশালী এআই সরঞ্জামের ব্যবহার মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্রে পরিণত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এআই বন্ধ করার জন্য ‘কিল সুইচ’ ধারণাও যথেষ্ট নয়, কারণ প্রযুক্তিটি এখনো একা কম্পিউটার দখল করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এর আগে আগস্টের শেষের দিকে বিল গেটস এআইয়ের প্রাণঘাতী ঝুঁকি নিয়ে একটি দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাও এআইয়ের বিকাশ ধীরগতির করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এআই প্রযুক্তির ওপর সাময়িক বিরতি টানতে একটি আইনি প্রস্তাব পেশ করেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ও ইরানে হামলায় মাইক্রোসফটের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসীদের নজরদারি ও নির্বাসনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।
বিতর্কিত অর্থদাতা জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ৩০টি বৈঠকে অংশ নেওয়ার তথ্য প্রকাশের পর গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান বিল গেটসের এটিই প্রথম বড় কোনো সাক্ষাৎকার। যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ ওঠেনি এবং তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজে এআই ব্যবহার করেন না বলেও সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে জানান গেটস।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান