সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদে এক রোহিঙ্গাকে নাগরিক সনদ দেওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়।
ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ১ নম্বর ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ (১ নম্বর ওয়ার্ড) মো. লিয়াকত আলী কর্তৃক মোছা. রোকেয়া বেগম বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও তাকে নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করায় এর আগে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং একই তারিখে আত্মপক্ষের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানো হয়। মো. লিয়াকত আলী কর্তৃক দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান-১ (১নং ওয়ার্ড) মো. লিয়াকত আলীকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ধারা ৩৪ (৪) এর (খ) ও (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪ (৬) ধারা মোতাবেক তাকে পদ হতে অপসারণ করা হলো।’
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন জানান, উচ্চ আদালত থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ লিয়াকত আলীর পদ বহালের জন্য পুনরায় চার মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী মো. আনিস ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ জন্মায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, তারা কক্সবাজারের উখিয়া টেংখালী ক্যাম্প-১২, জি-৪ এলাকার রোহিঙ্গা শরণার্থী।
এরপর ওই বছরের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে উপসচিব মো. নুরে আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।