রাস্তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী ও পূর্তমন্ত্রী প্রবেশ সাহিব সিং বর্মার চড় খেয়েছেন এক যুবক। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকা দলগুলো এখন আর ভোটারদের ভয় পায় না। ভোটচুরির কারণেই তাদের মধ্যে এমন ঔদ্ধত্য তৈরি হয়েছে।
রোববার পশ্চিম দিল্লির তিলক নগরে রাস্তা নির্মাণের কাজ দেখতে গিয়েছিলেন প্রবেশ বর্মা। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক জারনাইল সিং। সেখানে রাস্তার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবকের সঙ্গে বর্মার কথা কাটাকাটি হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি যুবকের হাত থেকে ফোন সরিয়ে দিয়ে চড় মারেন বলে অভিযোগ। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা যুবককে সরিয়ে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী যুবকের নাম সাহেব সিং।
সাহেব সিং দাবি করেছেন, তিনি স্থানীয় বিধায়কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজ করেন। পূর্ত দপ্তরের ডাকে রাস্তা পরিদর্শনের সময় তিনি রাস্তার উপরের অংশ হাতে উঠে আসার দৃশ্য ভিডিও করছিলেন। তার অভিযোগ, রাস্তার নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই তাকে চড় মারা হয়। ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করে প্রবেশ বর্মার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রবেশ বর্মা ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আম আদমি পার্টির কর্মীরা তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই হাতাহাতি হয়। বর্মা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় আপ বিধায়ক জারনাইল সিং ঠিকাদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে কমিশনের ব্যবস্থা করার জন্য পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন। তার কথায়, রাস্তা তৈরির পর রাতের অন্ধকারে সেটি খুঁড়ে ফেলা হয় এবং পরে নিম্নমানের কাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। রাহুল গান্ধী সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, রাস্তায় প্রশ্ন করলে চড়, প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রশ্ন করলে লাঠিচার্জ, আর সংসদে প্রশ্ন করলে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের ভোটারদের কাছে জবাবদিহির ভয় কমে যাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। রাহুল আরও বলেন, ভোটচুরির অর্থ শুধু নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি নয়। এর ফলে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এমন ঔদ্ধত্য তৈরি হয় যে তারা আর জনগণের সম্মতির প্রয়োজন বোধ করেন না।
রাহুলের মন্তব্যের জবাবে প্রবেশ বর্মা বলেছেন, বিষয়টি থেকে দূরে থাকাই তার ভালো। কারণ তিনি ঘটনার কিছুই জানেন না।
দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, সাহেব সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে । পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাহেব সিংয়ের বিরুদ্ধে আগের একটি হামলার মামলাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। রাস্তার মান নিয়ে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন দিল্লির রাজনীতিতে ক্ষমতা, জবাবদিহি এবং ভোটারদের সঙ্গে শাসকদের আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।