বাগেরহাটের শরণখোলায় বলেশ্বর নদে গোসল করতে নামা একটি গাভিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সাহসিকতায় তা রক্ষা পেয়েছে। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করে কুমিরের মুখ থেকে জীবিত গাভিটি উদ্ধার করেন শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন সাহসী মানুষ।
সোমবার দুপুরে সুন্দরবন-সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার বগী এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নদের পাড়ে বসে ছিলেন শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। হঠাৎ তারা দেখতে পান, একটি বিশালাকার কুমির পাড় থেকে একটি গাভিকে কামড়ে টেনে গভীর জলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় মুহূর্তের মধ্যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তারা লাঠিসোঁটা হাতে নদীতে নেমে পড়েন এবং কুমিরটিকে তাড়া করেন। লোকজনের তোপের মুখে টিকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত গাভিটিকে ছেড়ে দিয়ে পানিতে পালিয়ে যায় কুমিরটি।
গাভিটির মালিক পুতুল বেগম জানান, এই গরুই তার পরিবারের একমাত্র সম্বল। কুমিরের নৃশংস আক্রমণে গরুটি গুরুতর আহত হয়েছে। আঘাতের তীব্রতায় গরুটি বর্তমানে ঠিকমতো উঠে দাঁড়াতেও পারছে না। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তবে গরুটি সুস্থ হবে কি না তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তিনি।
শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মাসুম বিল্লাহ জানান, কুমিরের কামড় ও আঘাতে গাভিটির শরীর বেশ জখম হয়েছে। হাসপাতালে পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
গরুর ওপর কুমিরের হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে বনরক্ষী দল পাঠায় বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসা কুমিরটির গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নদী ও খালের পাড়ে চলাচলকারী এলাকাবাসী ও পশু মালিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।