যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি সামরিক বিমানঘাঁটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাদের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, কথিত বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে কোনো বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াশিংটনে এক বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাদের এভাবে জামিন দেওয়ায় আমি সত্যিই বিস্মিত। আমি হলে কখনো এমনটি হতে দিতাম না।
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ব্যক্তিই ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের সবার বয়স ২০-এর কোঠায়। তাদের জামিনে মুক্তির পরপরই সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম।
এর আগে গ্লস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি লক্ষ্য করে কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। গত রোববার ভোরে ওই বিমানঘাঁটিতে নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর তেহরানের পক্ষ থেকে এ অস্বীকৃতি জানানো হয়।
রোববার ভোরে বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহভাজন সাদা ভ্যান দেখার খবর পাওয়ার পর থেকেই তদন্তে নামে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেররিজম পুলিশ। উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে।
আটক ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশিংয়ের প্রধান সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর। তিনি বলেন, “জামিনে মুক্তি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তদন্ত শেষ হয়ে গেছে।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের গতিবিধি ও যোগাযোগের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বিস্ফোরক দ্রব্য সংরক্ষণ এবং ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি’ নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর আগে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপকে ‘দারুণ কাজ’ বলে প্রশংসা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।