মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য মাঠপর্যায়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেন। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গুজব ও অপপ্রচার রোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আইজিপি।
সভায় অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. সায়েদুর রহমান কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশও দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান মো. সায়েদুর রহমান।
সভায় আগস্ট মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলাসহ মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সাজার হার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।