১০০ জন তরুণকে প্রশিক্ষণের পর কর্মকসংস্থান নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে শেষ হল স্কিল আপ-এমপাওয়ারিং ইয়ুথ ফর ডিজিটাল এমপ্লয়মেন্টের সিজন ২। সম্প্রতি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) মানিকগঞ্জ আয়োজিত এই প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালে জেসিআই বাংলাদেশের জাতীয় সম্মেলনে (ন্যাটকন) ‘মোস্ট ইমপ্যাক্টফুল প্রজেক্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে এই প্রকল্পটি। এবারও এমপ্লয়মেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বিপিও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্কাইটেক সলিউশনস।
প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়ে জেসিআই মানিকগঞ্জের জিএলসি এবং এই প্রকল্পের চেয়ারম্যান আর. কে. জ্যান বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিয়ে আমরা ২য় বছরের মত এই প্রকল্পে কাজ করেছি। যেখানে আমরা স্কাইটেক সল্যুশনের মাধ্যমে ১০০ জন তরুণকে বিপিও সেক্টরের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি। এই ১০০ জন তরুণের নতুন দক্ষতা, নতুন সুযোগ এবং নতুন সম্ভাবনার সূচনা করার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যপূরণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজকে ডিজিটাল অর্থনীতির উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুবসমাজকে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং আপওয়ার্ক, ফাইভার বা ফ্রিল্যান্সার ডটকমের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পেশাদার প্রোফাইল তৈরি ও অপ্টিমাইজেশনের বাস্তবমুখী কৌশল শেখানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সাথে সফল যোগাযোগ রক্ষা, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলসের দক্ষ ব্যবহার এবং অফিস স্যুটের প্রায়োগিক কলাকৌশল রপ্ত করার মাধ্যমে আমাদের তরুণরা যেন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারে আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
আর. কে. জ্যান বলেন, শুধুমাত্র তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানই নয়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনধারার মান উন্নয়নে বিশুদ্ধ খাবার পানি, বিকল্প জ্বালানী বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা ধরনের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে জেসিআই মানিকগঞ্জ। এই চ্যাপ্টারের জিএলসি, এই প্রকল্পের চেয়ারম্যান এবং সর্বোপরি জেসিআই বাংলাদেশের সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জেসিআই মানিকগঞ্জের স্থানীয় প্রেসিডেন্ট সাবরিনা পারভীন খান, স্কাইটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসনাদ ই আহমেদ, প্রকল্পের টিম, প্রশিক্ষক, অংশগ্রহণকারীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
জেসিআই মানিকগঞ্জের ২০২৬ সালের লোকাল প্রেসিডেন্ট সাবরিনা পারভীন খান বলেন, জেসিআই মানিকগঞ্জ বরাবরই এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে, তারই একটি অংশ এই স্কিল-আপ প্রকল্পতি। এখানে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এসডিজির ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা গুণগত শিক্ষা এবং ৮ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। সেই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে গেল দুই বছর আমাদের চ্যাপ্টার থেকে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আমি আশাবাদী।
চ্যাপ্টারটির ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট আবু সুফিয়ান নিলাভ বলেন, গতবছর আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রথম যেকয়টি পরিকল্পনা করেছিলাম, তার মধ্যে শীর্ষে ছিল দেশের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেওয়া। সেই জায়গা থেকেই এই প্রকল্পটি শুরু করি, যা আমরা এবার ২য় বারের মত করলাম। আশা করছি শুধু মাত্র দক্ষ কর্মীই না এখান থেকেই ভবিষ্যতের দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তাও আমরা পাবো।
প্রকল্পের এমপ্লয়মেন্ট পার্টনার স্কাইটেক সলিউশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসনাদ ই আহমেদ বলেন, জেসিআই মানিকগঞ্জের সাথে আমার কাজের অভিজ্ঞতা চমৎকার। ২০২৫ সালে জেসিআই মানিকগঞ্জের লোকাল প্রেসিডেন্ট নিলাভ ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয় যে, দেশের উদ্যম এবং শিক্ষিত তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে। সেই ভাবনা থেকেই আমরা পার্টনারশিপ করি এবং গত প্রায় দেড় বছরে আমরা প্রায় ২০০ জন ফ্রেশারকে ট্রেইনিং দিয়েছি। ট্রেইনিং শেষে স্কাইটেক এবং দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেসিআই মানিকগঞ্জের ২০২৬ সালের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আরিফ হোসেন বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো স্কিল আপ প্রকল্পের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। এবারের উদ্যোগের মাধ্যমে ১০০ জন তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল দক্ষতা বিকাশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং সফলভাবে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তরুণদের জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থবহ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ নেতৃত্বের একটি বৈশ্বিক সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে সংগঠনটির সদর দপ্তর। বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে জেসিআইয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক উদ্যোগ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংগঠনটি কাজ করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে জেসিআইয়ের ৪০টিরও বেশি লোকাল চ্যাপ্টার সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে জেসিআই মানিকগঞ্জ যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।