পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে পানির ফোয়ারা? মন্ত্রী বললেন 'সঠিক নয়'

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য না বানিয়ে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তার মতে, এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সঠিক নয় এবং বিষয়টি নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের আলোচনা থাকতে পারে।

বুধবার সচিবালয়ে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই কথা জানান। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের স্থানে ফোয়ারা নির্মাণের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার নেয়নি। এছাড়া এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর একটি গণমাধ্যমে ‘সোহরাওয়ার্দীতে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে বসছে পানির ফোয়ারা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র এবং উপসচিব পলি করের সইয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয় এবং ২০২৭ সালের জুনে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছিল যে সেখানে ভাস্কর্য দুটি হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের মন্ত্রী দাবি করেন, ওই স্থানে কী করা হবে তা নিয়ে তারা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং যা হবে তা ভবিষ্যতে সবাই দেখতে পাবেন।