মৌলভীবাজারে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক কিশোরীকে অপহরণ করে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল থানায় মামলাটি দায়েরের পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। পরে মামলার এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—শ্রীমঙ্গলের ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং একই উপজেলার রিটি গ্রামের আল আমিন ইসলাম (২০)।

তারা শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিলবাড়ি বঙ্গবীর রোড এলাকার একটি বাসায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল ওই কিশোরী। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। পরে জোরপূর্বক তাকে তুলে নিয়ে ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় আটকে রাখে।

অভিযোগে বলা হয়, ওই বাসায় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পরদিন রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রোববার সকাল ৯টার দিকে তাকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যায়।

পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে রেলস্টেশন থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।