ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নাগরিকদের ধর্মভিত্তিক তথ্য চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত জনসংখ্যা পরিবর্তন পর্যালোচনা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটি রাজ্যগুলোর কাছে নাগরিকদের ধর্মভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

সাবেক বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলকরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সম্প্রতি রাজ্য সরকারগুলোর কাছে ৩৫ দফার একটি প্রশ্নাবলি পাঠিয়েছে। তাতে বিগত ১৫ বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্র ভর্তি, গাড়ি কেনাবেচা, জন্ম নিবন্ধন এবং জমি-সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়ে ধর্ম অনুযায়ী হিসাব চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মান্তরের গোয়েন্দা প্রতিবেদন, বিভিন্ন জেলায় উপাসনালয়ের তালিকা এবং আধার, ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।

তবে রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এ ধরনের তথ্য ধর্মভিত্তিকভাবে আলাদা করে রাখা হয় না। ফলে এত বিপুল ও জটিল তথ্য সরবরাহ করা তাদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বিষয়টিকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি স্পষ্টতই একটি খারাপ উদ্দেশ্যমূলক কর্মসূচি। তার মতে, কমিটির একটি পক্ষপাতদুষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন হয়তো আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই এই কমিটির কাজ দ্রুত শেষ করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, নিরপেক্ষ গবেষণার নামে শিক্ষা, সম্পত্তি ও নাগরিক সেবার মতো মৌলিক বিষয়ে ধর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান খোঁজা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের অধিকার সংকুচিত হতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, জনসংখ্যার রূপান্তর পর্যালোচনার আড়ালে এই প্রক্রিয়া মূলত একটি বিশেষ সম্প্রদায় এবং সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও হেনস্তা করার মানসিকতা থেকে পরিচালিত হচ্ছে।