ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অতিমানবীয় এক ইনিংস খেলে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল। পাহাড়সম ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১৭ বলে দ্বিশতক স্পর্শ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গিলের অপরাজিত ২২৩ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করে অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক ভারত।
গুয়াহাটিতে ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন গিল। প্রথমে মাত্র ৬২ বলে নিজের ১১তম ওয়ানডে শতক পূর্ণ করেন তিনি। তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর তার ব্যাটিংয়ের গতি আরও বিধ্বংসী রূপ নেয়; পরের ১০০ রান তুলতে তিনি খেলেন মাত্র ৫৫ বল। শেষ পর্যন্ত ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করে পেছনে ফেলেন সতীর্থ ঈশান কিষাণকে। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন কিষাণ।
দ্রুততম দ্বিশতকের পাশাপাশি এ দিন আরও একাধিক বিরল কীর্তির মালিক হয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এটিই এখন কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর মাধ্যমে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের খেলা অপরাজিত ২০১ রানের ঐতিহাসিক রেকর্ডটি ভেঙে নিজের করে নিলেন গিল। এ ছাড়া ভারতের সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মার (৩টি) পর ওয়ানডে ফরম্যাটে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করা বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবেও ইতিহাসে নাম লেখালেন তিনি।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৪০৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা ওয়ানডেতে তাদের দলীয় ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। জবাবে রান তাড়ায় নেমে ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শুবমান গিল ও রোহিত শর্মা। উদ্বোধনী জুটিতেই মাত্র ২৬ দশমিক ২ ওভারে ২৫৫ রান যোগ করেন এই দুজন। রোহিত ৭৫ বলে ১০১ রান করে আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে রেকর্ড গড়া জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন গিল।