এখনকার ফুটবল প্রজন্মের কাছে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল খুব একটা পরিচিত না। বার্সেলোনা, ম্যানইউ, চেলসি সম্পর্কে এখনকার প্রজন্ম যতটা নিখুঁত তথ্য দিতে পারে ততটা দিতে পারবে না ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সম্পর্কে। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল অনেক শক্তিশালী। তাদের ফুটবলের সোনালি অধ্যায় আছে। সেটি কোনোভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করার মতো না।
বাংলাদেশের ঘরে সাফের ট্রফি, সাফ গেমসের ট্রফি, মিয়ানমারে টুর্নামেন্ট জয়ের ট্রফি রয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলে আছে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। আছে অনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা। অলিম্পিক ফুটবলে ব্রোঞ্জ পদক আছে। পাঁচবার এশিয়ান কাপে খেলেছে। আছে অনেক ট্রফি। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের সেই ইতিহাস অনেক লম্বা। বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সম্পর্কটাও দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ তখন নিয়মিত মারদেকা কাপ ফুটবলে খেলছে, মালয়েশিয়ায়। এখনকার ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলও বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী। ফিফার র্যাংকিংয়েও এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া।
ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলাররা ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলছে। ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলারও রয়েছে এই দলে। খেলবে নিজেদের মাঠে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফুটবল এখন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে। দুই ম্যাচ হেরেছে, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। হারলেও ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ছিল সমালোচিত। একজন হামজা চৌধুরী ছাড়া পুরো দলের খেলা ছিল হতাশজনক।
তার ওপর বাংলাদেশ দলের আমেরিকান কোচ থমাস ডুলির গেম প্ল্যান পদে পদে সমালোচিত হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১১টা কর্নার পেয়েও গোল করতে পারেনি। একটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত। সেটপিস নিয়ে কাজ করেছেন কোচ। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটা ম্যাচের পরই কোচ সমস্যা দূর করতে মাথা ঘামিয়েছেন। কিন্তু ফুটবলাররা কখনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
সবকিছু ভুলে গিয়ে আজ নতুন করে লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুতি নিয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জাকার্তার স্টেডিয়ামে দর্শক খুব একটা ছিল না। পুরোটাই ফাঁকা ছিল বলা যায়। কিন্তু আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগেই স্টেডিয়ামের ছবি বদলে যাবে। স্বাগতিকদের সঙ্গে খেলা। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যেমনই হোক, লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। জামাল ভূঁইয়ারা সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গতকাল অনুশীলনে নেমে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন তারা গেম প্ল্যান করছেন। ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচগুলো ভালোভাবে দেখেছেন কোচিং স্টাফ। কোথায় কোথায় ভুল করতে পারে সেগুলো খুঁজে নিয়েছেন কোচ। ইন্দোনেশিয়া যত শক্তিশালী হোক। আজ বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে ম্যাচ জেতা। মানসিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবলাররা অনেক বেশি চাঙ্গা। অনেক বেশি ক্ষুধার্থ। তারা বিশ্বাস করে ম্যাচ জয়ের লড়াই হবে। লড়াই হবে ইতিহাসের। পেছনের গল্প ভুলে গিয়ে নতুন ইতিহাস করতে জীবনবাজি রাখতেও প্রস্তুত বাংলাদেশের ফুটবলাররা।
২০২২ সালে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়। সাতবারের মুখোমুখিতে জয় আছে এক বার, ৮৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ গোলে।