মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য সংরক্ষিত নারী আসনটিতে কীভাবে হবে উপনির্বাচন

জাতীয় সংসদের কোনো সাধারণ আসন শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন নতুন সংসদ সদস্য। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে নিয়মটা ভিন্ন। এ ধরনের আসন শূন্য হলে সাধারণ আসনের মতো সরাসরি ভোট হয় না। যে দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, সেই দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীর মাধ্যমেই তা পূরণ করা হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনে বলা আছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সংরক্ষিত মহিলা আসন শূন্য হলে শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে ওই আসন বণ্টন করা হয়েছিল, শুধু সেই দল বা জোটই উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এই উপনির্বাচনে ভোটারও হবেন ওই নির্দিষ্ট দল বা জোটের সংসদ সদস্যরা।

ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য আছেন ৫০ জন। যার মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, এর একটিতে মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলে, তিনি নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন, সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। পরে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। এরপর আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই পদ পূরণের জন্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এই উপনির্বাচনের জন্যও পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে ভোটার হবেন সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নারী আসনের পদত্যাগকারী সংসদ সদস্য যে দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন, সেই দলের সংসদ সদস্যরা। অর্থাৎ এই আসন বিএনপির। শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনেও শুধু বিএনপিই এখানে প্রার্থী দিতে পারবে। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই ঘটনার পর বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ। ইতিমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।