চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডেকে নেট-দুনিয়ায় ভাইরাল প্রবীণ ব্যক্তি

বিমানে ভ্রমণের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি (চ্যাটজিপিটি) ব্যবহার করে নিজের নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা সাজিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ভারতের হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সী ভিবিআর প্রসাদ। মূলত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে তার বিনয়ী আচরণ মন জয় করেছে নেটিজেনদের। 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, ভিবিআর প্রসাদ ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করছিলেন। এ সময় পাশের আসনে থাকা এক তরুণ যাত্রী তার কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করেন। পরে ‘টেকনোসর’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি প্রসাদের ছবি ও চ্যাটজিপিটির সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিলিয়নবার দেখা হয়।

পোস্টে ওই যাত্রী লেখেন, ‘আমার ফ্লাইটে ৭৭ বছর বয়সী এক দাদু উড্ডয়নের আগ পর্যন্ত চ্যাটজিপিটি দিয়ে ভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করছিলেন। আর তিনি এআইকে স্যার বলে ডাকছেন।’

তার একটি বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই ভাইরাল হয়ে যায়। চ্যাটজিপিটিকে লেখা একটি বার্তায় প্রসাদ লিখেছিলেন, চমৎকার দিকনির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ, স্যার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আমি আবার আপনার কাছে ফিরে আসব, স্যার। আমাকে ফাইল দুটো ডাউনলোড করতে দিন, স্যার।

টেকনোসোর নামক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের এক ব্যবহারকারী বিমানের সেই মুহূর্তে প্রসাদের একটি ছবি ও কথোপকথনের বিবরণ পোস্ট করেন। পোস্টটি করার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা লাখ লাখ মানুষের নজর কাড়ে এবং ইন্টারনেটে প্রশংসার জোয়ারে ভাসে। পোস্টদাতা জানান, পুরো যাত্রাপথে প্রসাদ অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।

প্রবীণ এই বয়সেও নতুন প্রযুক্তিকে সহজভাবে গ্রহণ করার জন্য তার প্রশংসা করছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। একই সাথে অনেকেই মজার ছলে মন্তব্য করেছেন যে, ভবিষ্যতে এআই যদি কখনো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণও করে, তাহলেও প্রসাদের এই মার্জিত ও বিনয়ী ব্যবহারের কারণে তিনি নিরাপদ থাকবেন। 

জানা গেছে, ভার্টিক্যাল ফার্মিং নিয়ে নিজের ব্যবসায়িক ধারণাকে আরও পরিমার্জন করতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছিলেন প্রসাদ। তার এই কর্মকাণ্ড দেখে সহযাত্রী তাকে ৭৭ বছর বয়সেও তরুণদের চেয়ে বেশি সক্রিয় ও কাজে মনোযোগী হিসেবে প্রশংসা করেন।

পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রসাদ নিজেও এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়ে তিনি আনন্দিত। নিজের জনপ্রিয়তার জন্য ওই সহযাত্রীকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রসাদের উপলব্ধিও নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনকে আরও ভালো করার জন্য এআই ব্যবহার করা। সবকিছুই আমাদের হাতে।’

তার এই বক্তব্য ও চ্যাটজিপিটির প্রতি স্বাভাবিক ভদ্রতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কেউ তাকে ‘অনুপ্রেরণাদায়ী’ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ মজা করে লিখেছেন, ভবিষ্যতে এআই যদি মানুষের বিরুদ্ধে যায়, তার ভদ্রতার কারণে এই দাদুকে হয়তো রেহাই দেবে।

আরেকজন মন্তব্য করেন, চ্যাটজিপিটি-ও তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করলেই সবচেয়ে মজার বিষয় হবে, এদিকে ভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের ব্যবসার পরিকল্পনাও এগিয়ে যাবে।