যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ক্রিস্টিয়া পাইক। ইনজেকশন দেওয়ার পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরে রয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় আদালতে দেওয়া লিখিত নথিতে ক্রিস্টিয়ার আইনজীবীরা তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি জানান। এতে বলা হয়, বিষাক্ত ইনজেকশনে ব্যবহৃত পেনটোবারবিটাল তার শরীর থেকে অপসারণের চেষ্টা চলছে। তবে তার অবস্থা গুরুতর।
এর আগে বুধবার রাতে ক্রিস্টিয়ার শরীরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুটি বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়া হয়। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইনজেকশন প্রয়োগের পর দীর্ঘ সময় তিনি ছটফট করেন। এ সময় তিনি কাঁদছিলেন এবং জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশিত সময়ে তার মৃত্যু হয়নি।
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে প্রথম দিকে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শুক্রবার আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া নথির মাধ্যমে জানা যায়, তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন।
১৯৯৫ সালে ক্রিস্টিয়া পাইক তার এক ছেলে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন। ওই সময় ক্রিস্টিয়ার বয়স ছিল ১৮ বছর এবং স্লেমারের বয়স ১৯ বছর। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ ৩২ বছর কারাবাসের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় কার্যকরটি ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় ক্রিস্টিয়ার আইনজীবীরা তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
তাদের একজন আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রিস্টিয়া সবচেয়ে কঠোর শাস্তিগুলোর একটি পেয়েছেন। তাই তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি