বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টাকারী পাইলটের পুরোনো পোস্ট

পাত্রীদের নিকাব পরার শর্ত দিয়েছিলাম, কেউ রাজি হয়নি, পাইলট শুনে সবাই রাজি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার অভিযোগ ওঠা কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তার নাম হামাম আল-হামানি। ২৯ বছর বয়সী এই পাইলট ওমানের নাগরিক।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাম অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা পুরোনো বিভিন্ন পোস্টেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।

২০২২ সালে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন হামাম। পোস্টে তিনি জানান, তার শর্ত ছিল—বিয়ের পর স্ত্রীকে নিকাব পরতে হবে এবং চাকরি করা যাবে না। তবে এসব শর্তে কোনো পাত্রী রাজি হচ্ছিলেন না। পরে তার মা যখন পাত্রীদের জানান যে ছেলে একজন পাইলট, তখন পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

হামাম লিখেছিলেন, ‘তার শর্ত মেনে চলবে এমন পাত্রী খুঁজতে তার মা হিমশিম খাচ্ছিলেন। নিকাব পরা এবং বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার শর্তে পাত্রীদের কেউ রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু তার মা যখন তাদের বলেন, ‘আমার ছেলে পাইলট’, তখন তারা সবাই হঠাৎ বিয়েতে রাজি হয়ে যান।

এছাড়া নারী ও পুরুষদের একসঙ্গে কাজ করা নিয়েও দ্বিমত ছিল হামামের। তার মতে, এটি নারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

২০২২ সালেই করা পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কতজন সম্মানীয়, ধার্মিক মেয়ে ছেলেদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের কৌশলে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে?’

গত বুধবার তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামানি পরিচালনা করছিলেন। মাঝআকাশে হামাম ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে ভারতীয় পাইলটকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর তিনি বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।