বিশ্ববাজারে টানা দরপতনের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ। শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের উচ্চ সুদের কারণে মূল্যবান এই ধাতুটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে স্বর্ণের দাম আরও কমেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গোল্ড ফিউচারের দামও ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৩ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়ায়।
ডলার ও বন্ডের সুদে চাপ
শুক্রবার মার্কিন ডলারের দর সামান্য কমলেও পুরো সপ্তাহে তা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পাশাপাশি ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ গত বৃহস্পতিবার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
সাধারণত বন্ডের সুদ বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, বিনিয়োগকারীরা তখন সুদ পাওয়া সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।
চাকরির বাজারের দুর্বল তথ্য প্রকাশের পর শুক্রবার শুরুতে স্বর্ণের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে সেই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখতে পারেনি বাজার।
মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে নন-ফার্ম পেরোল বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। এর আগে প্রকাশিত হিসাবে আগস্টে চাকরি বৃদ্ধির সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার বলা হয়েছিল।
রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা সেপ্টেম্বরে ৯০ হাজার নতুন চাকরি তৈরির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সংখ্যা হয়েছে তার তুলনায় অনেক কম।
ফেডের সুদের সিদ্ধান্তে নজর
মার্কিন চাকরির বাজারের দুর্বল তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে বাজারে ধারণা রয়েছে, চলতি মাসে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
সাম্প্রতিক তুলনামূলক দুর্বল মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং অক্টোবরের আরেক দফা সুদ বাড়ানোর বিরোধিতা করা ফেডের অন্তত দুজন শীর্ষ নীতিনির্ধারকের অবস্থানও এই প্রত্যাশাকে জোরালো করেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নেমে এসেছে প্রায় ২২ শতাংশে। সপ্তাহের শুরুতে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।
তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ফেডের কড়াকড়ি নীতি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বাইটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, ফেডের কঠোর অবস্থানের কারণে স্বর্ণের বিনিয়োগকারীরা এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাইছেন না।
আরও কমতে পারে সোনার দাম
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সময়ে বাজারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে সুদের হার দীর্ঘ সময় তুলনামূলক বেশি থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
উচ্চ সুদের হার সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করে। এ কারণে বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমার আশঙ্কাও রয়েছে।
মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, স্বর্ণের দামের চার্ট এখনো দুর্বল অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সুদের হার আবার বাড়তে শুরু করলে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।
কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামও
স্বর্ণের পাশাপাশি শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে।
প্লাটিনামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯২ ডলার। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্বর্ণ, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম—চারটি মূল্যবান ধাতুই সপ্তাহ শেষে দরপতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।