সাইবার নিরাপত্তা আইনে সরকার হাসিনার পথেই হাঁটছে: হাসনাত কাইয়ূম

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের নতুন ব্যবস্থা বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নামে অতীতের নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামোই নতুনভাবে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই আইন করা হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পথেই হাঁটছে।

তিনি আরও বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামো পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনী তার বিপরীত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে ‘প্রস্তাবিত সাইবার আইন: জবান বন্ধের নয়া বন্দোবস্ত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম এ কথা বলেন।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নামে ভিন্নমত দমনের যে ধারা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে রাজনৈতিক স্বার্থে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ে।

বিএনপিকে গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে হাসনাত কাইয়ূম দলটিকে হাসিনার পথে না হাঁটার আহ্বান জানান। সরকার প্রস্তাবিত আইনের অবস্থান থেকে সরে না এলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

গোল টেবিলে গীতিকবি ও অ্যাক্টিভিস্ট শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, ‘এটা সাইবার সুরক্ষা আইন হচ্ছে না। এটা তারা সরকার সুরক্ষা আইন বানাচ্ছেন।’

ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার অভিযোগ করেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই ‘সাইবার পুলিশ’ করা হয়েছে। নাগরিকদের ওপর নিপীড়নের সুযোগ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব।

গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, সরকার জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে দল-মত নির্বিশেষে আবারও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) স্থায়ী কমিটির সদস্য কে এম জাবির, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের সংগঠক বাকী বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বৈঠক সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।