চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিকের ৯টি কন্টেইনার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে এই কার্যক্রম শুরু করে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম। কন্টেইনারগুলো নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে পরিবেশসম্মত উপায়ে সেগুলো ধ্বংস করা হবে।
জানা যায়, ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এসেছিল এক কনটেইনার থিনার। দাহ্য এই রাসায়নিক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেটি আর খালাস নেয়নি আমদানিকারক। এরপর বছর গড়িয়েছে। একের পর এক জাহাজ এসেছে-গেছে, বন্দরের চেহারাও বদলেছে। কিন্তু কনটেইনারটি পড়ে ছিল সেখানেই।
অবশেষে ২৩ বছর পর গতকাল সেই কনটেইনার বন্দর থেকে বের করা হয়েছে। শুধু ওই থিনার নয়, একইসঙ্গে বন্দর থেকে আরও আট কনটেইনার বিপজ্জনক রাসায়নিক সরানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯ কনটেইনারে রয়েছে প্রায় ১৫১ টন থিনার, সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড ও মিথানল।
কাস্টসমস হাউজ চট্টগ্রামের অ্যাসিটেন্ট কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কনটেইনার জট নিরসনে বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৯টি কন্টেইনারের মোট ১৫০ দশমিক ৮৯ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি) এর সুপারিশক্রমে এবং কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন কাস্টমস কর্মকর্তা মো. রাসেল আহমেদ।
এদিন সকাল ১০টায় কাস্টমসের ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রাসায়নিকবাহী যানবাহনগুলো পুলিশ প্রহরায় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে পুরোনো চালানটি থিনারের। দুটি কনটেইনারে থাকা মোট ৩২ দশমিক ৩০ টন থিনারের একটি এসেছিল ২০০৩ সালে, অন্যটি ২০১৬ সালে। প্রায় ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি কনটেইনার আসে ২০১৪ সালে। প্রায় ২৬ টন সালফিউরিক অ্যাসিডের একটি কনটেইনার আমদানি হয় ২০১৬ সালে। আর পাঁচ কনটেইনারে থাকা প্রায় ৯৩ টন মিথানল এসেছিল ২০১৯ ও ২০২৩ সালে। অর্থাৎ ধ্বংসের জন্য সরিয়ে নেওয়া রাসায়নিকগুলোর কোনোটি বন্দরে পড়ে ছিল ২৩ বছর, কোনোটি ১০ বছরের বেশি সময়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানায়, বিপজ্জনক রাসায়নিক দীর্ঘদিন বন্দরের ভেতরে পড়ে থাকলে একদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়, অন্যদিকে কনটেইনারগুলো বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এ কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী এ ধরনের পণ্য শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকায় ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা মো. রাসেল আহমেদ।
এ কাজে বিএনএসিডব্লিউসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে।