মাল্টার অস্বাভাবিক দামে ক্ষুব্ধ বাণিজ্যমন্ত্রী, আমদানিকারকদের অজুহাত ‘উচ্চ শুল্ক ও সংকট’

দেশে খুচরা বাজারে আমদানিকৃত ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে প্রতি কেজি মাল্টা ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকা এবং বেদানা ৫২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি জানা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে প্রতি কেজি মাল্টা মাত্র ৭০ সেন্ট (প্রায় ৮৭ টাকা) মূল্যে আমদানি হলেও তা খুচরা বাজারে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে আমদানিকারকরা অতিরিক্ত শুল্ক-কর ও সরবরাহ সংকটকে দায়ী করলেও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা সিন্ডিকেট ও বাজার তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন।

আমদানিকৃত ফলের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে শনিবার সচিবালয়ে ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আমদানি মূল্য, শুল্ক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ করার পরও কীভাবে মাল্টার দাম প্রতি কেজি ৫২০ টাকায় পৌঁছায়, ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চান তিনি। একই সঙ্গে বাজারে অস্বাভাবিক দামে ফল বিক্রির প্রমাণ মিললে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে ফল আমদানির ক্ষেত্রে পাঁচটি স্তরে সর্বমোট ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত করভার বহন করতে হয়। অর্থাৎ ১০০ টাকার ফল আমদানিতে প্রায় ১২২ টাকা শুল্ক-কর দিতে হয়। অতিরিক্ত শুল্ক ও লোকসানের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা গত কয়েক মাসে মাল্টা আমদানি মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। আগে সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ কনটেইনার মাল্টা খালাস হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১২ কনটেইনারে। সরবরাহ ঘাটতি ও পরিবহন খরচের কারণেই বাজারে ফলের দাম এমন আকাশচুম্বী হয়েছে বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে, দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে মাল্টা, বেদানা ও ডাবের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান, শুল্ক কমার পরও অনেক সময় ব্যবসায়ীরা বাজারে দাম কমান না; বরং আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরের ওপর দোষ চাপান। তিনি মনে করেন, কেবল মৌখিক নির্দেশনা বা লোকদেখানো অভিযানে কাজ হবে না; নিত্যপ্রয়োজনীয় ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।