‘সরকার দায়িত্ব পালন করছে না’: ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে মারাত্মক শয্যাসংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা তৈরিতে সরকার যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ডেঙ্গুর তীব্র আক্রমণে হাসপাতালগুলোতে এখন রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অথচ প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে না। আমরা সরকারে না থাকলেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনগণকে সচেতন করার এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর চার দফা কর্মসূচির অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো সমাজসেবা ও সমাজ সংস্কার। সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই ৪ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু সচেতনতা সপ্তাহ’ পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের প্রতিটি শাখা পর্যায়ে ডেঙ্গু বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত প্রচারপত্র বিলি করা হবে। ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়, প্রতিরোধের উপায়, আক্রান্ত হলে করণীয় এবং জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে কী কী পরীক্ষা করানো প্রয়োজন—সে বিষয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে।

স্বাস্থ্য খাতের অতীত ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, এর আগে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবকালে শত শত শিশুর মৃত্যুর দৃশ্য জাতিকে দেখতে হয়েছে। সে সময় ওষুধ সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না।

রোগের প্রাদুর্ভাব মহামারির রূপ নেওয়ার আগেই জনগণকে সচেতন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমাজের জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।