আর্জেন্টিনার কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত বুরকিনা ফাসোর দলটি ছিল অনূর্ধ্ব-২৩

দলীয় বিশৃঙ্খলা ও ফ্লাইট জটিলতার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নামাতে বাধ্য হয়েছিল বুরকিনা ফাসো। দীর্ঘ যাত্রা শেষে বুয়েনস আইরেসে পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পরই মাঠে নামতে হয় তাদের। ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের কাছে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারে বুরকিনা ফাসো। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট গোলডটকম।

বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটিকে ঘিরে চরম নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। মরক্কো থেকে নির্ধারিত চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা এবং মারাত্মক ভ্রমণের ক্লান্তির কারণে মূল জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ম্যাচটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানান।

এমন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের উদীয়মান ফুটবলারদের নিয়ে একটি জরুরি দল গঠন করতে বাধ্য হন বুরকিনা ফাসোর প্রধান কোচ আমির আবদু। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ সম্পন্ন করতে শেষ মুহূর্তে এই তরুণ খেলোয়াড়েরা জাতীয় দলের ডাকে সাড়া দেন।

দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে ম্যাচের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা আগে বুয়েনস আইরেসের মাটিতে পা রাখে এই অনূর্ধ্ব-২৩ দলটি। কোনো রকমের ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতি কিংবা অনুশীলন করার সময় মেলেনি। এমন বিপর্যস্ত অবস্থাতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করতে সরাসরি মাঠে নেমে পড়েন তরুণ ফুটবলাররা।

পুরো ঘটনা ও খেলোয়াড় পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে বুরকিনা ফাসো ফুটবল ফেডারেশন (এফবিএফ)। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অনূর্ধ্ব-২৩ দলের তরুণ ফুটবলারেরা এই ম্যাচটিকে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের একটি মূল্যবান ও দারুণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে।’

ভ্রমণের চরম ক্লান্তির মাশুল গুনতে হয় মাঠে। শক্তিশালী আর্জেন্টিনার আক্রমণের ঝড়ে একে একে সাতটি গোল হজম করে জোড়াতালি দিয়ে গড়া এই দলটি। ম্যাচ শেষে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করেই দ্রুত স্টেডিয়াম ত্যাগ করে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

তবে চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও ম্যাচটি খেলতে আসার জন্য বুরকিনা ফাসোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, বুরকিনা ফাসো থেকে যারা কষ্ট করে এসেছে, আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের মূল খেলোয়াড়দের কী সমস্যা হয়েছিল, তার বিস্তারিত আমি জানি না। তবে যারা এখানে এসে খেলেছে, তাদের এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে। তারা ফুটবলকে সম্মান দেখিয়েছে। আমরাও তাদের এই লড়াকু মনোভাবকে সম্মান জানিয়ে পূর্ণ পেশাদারত্ব ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচের মতো খেলেছি।