স্বাধীনতা দিবসে ২৩ হাতি নিধনের অনুমতি, বোতসোয়ানা সরকারের সিদ্ধান্তে সমালোচনা

স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ২৩টি হাতি শিকারের অনুমতি দিয়েছে বোতসোয়ানা সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন জেলার জন্য নির্ধারিত হাতি শিকারের কোটার অংশ হিসেবে এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, শিকার করা হাতিগুলোর মাংস দুস্থ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হবে।

আফ্রিকান সাভানা হাতি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় রয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ বোতসোয়ানায় আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার হাতি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।

দেশটিতে নিয়ন্ত্রিত হাতি শিকারের বার্ষিক কোটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সরকারের দাবি, হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে এ ধরনের শিকার প্রয়োজনীয়। হাতির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০১৯ সালে শিকারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয় বোতসোয়ানা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি প্রতিবছর ২০০ থেকে ৪০০টির বেশি হাতি শিকারের অনুমতি দিয়ে আসছে।

এবারের উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের ৬০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে। হাতির পাশাপাশি কয়েক প্রজাতির হরিণ শিকারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে সিদ্ধান্তটির তীব্র বিরোধিতা করেছে বোতসোয়ানা এলিফ্যান্ট প্রটেকশন সোসাইটি। সংগঠনটি এ পদক্ষেপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে। তাদের আশঙ্কা, একটি হাতিকে হত্যা করা হলে পুরো পাল প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য ঝুঁকি বাড়াবে।

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাতির পাল অনেক সময় কৃষকের ফসল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানুষের প্রাণহানির কারণও হয়। এ কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আশপাশের কয়েকটি দেশেও নির্দিষ্ট কোটায় হাতি শিকারের অনুমতি দেওয়া হয়।

বন্যপ্রাণীর আধিক্যের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বোতসোয়ানা গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। একই সঙ্গে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে দেশটিতে। প্রতিবছর এ ধরনের শত শত ঘটনার নথি তৈরি হয়।

২০২৪ সালে বোতসোয়ানার হাতির সংখ্যা ও ট্রফি হান্টিং নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়। সে সময় দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোকগউইটসি মাসিসি যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সমালোচনার জবাবে দেশগুলোতে হাজার হাজার হাতি পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

জার্মান সংবাদপত্র ‘বিল্ড’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাসিসি বলেছিলেন, বার্লিনে বসে বোতসোয়ানার অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মতামত দেওয়া সহজ। তিনি আরও বলেছিলেন, হাতি ব্যবস্থাপনা কোনো হাসির বিষয় নয়।

চলতি সপ্তাহের শিকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে দেশটির বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যান বিভাগের উপপরিচালক ডিমাকাতসো এনতশেবে বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ থেকে পাওয়া সুবিধা অবশ্যই সেই সব সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানো উচিত, যারা বন্যপ্রাণীর পাশে বসবাস করে এবং তাদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বোতসোয়ানার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা ইয়ান খামা। বর্তমানে আঞ্চলিক প্রধানের ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা খামার মতে, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতেও হাতি নিধনের একটি ‘খারাপ প্রত্যাশা’ তৈরি করতে পারে।