চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেখানে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পাশাপাশি ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
রোববার (৪ অক্টোবর) জঙ্গল সলিমপুরে চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বলা হতো। ৯ মার্চের আগে জায়গাটি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, এরপর সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে কাজের প্রায় ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। সড়কগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলে মানুষের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
জঙ্গল সলিমপুরে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য স্থানও নির্বাচন করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক ওই স্থানগুলো, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। এখানকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নত নগরের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
এদিকে পরিদর্শনের সময় আলীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এ সময় আলীনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত জটিলতার কথা তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে।’
এসময় জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে ‘মিথ্যা অপপ্রচার’ ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানকার শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। এসব দেখলে এলাকাটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা বদলে যেত।’
গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলাকালে সহযোগিতার জন্য আলীনগর স্কুল ও এসএম পাইলট স্কুল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানের জন্য বিদ্যালয় দুটি জায়গা দিয়েছিল।’
পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।