‘হাতজোড় করে মারপিট না করার অনুরোধ’, তবুও থামেনি পিটুনি

যশোরের চৌগাছায় চোর সন্দেহে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে (প্রায় ৩৫) গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়ালঘরের পেছনের আম ও মেহগনি বাগানে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন ইদ্রিস আলীর ছেলে শফিকুর রহমান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শফিকুরের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে একজনকে ধরে ফেললেও অপর দুজন পালিয়ে যান।

পরে ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে স্থানীয় কয়েকজন কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি হাতজোড় করে মারধর না করার অনুরোধ জানালেও পিটুনি থামেনি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল মিজান রুমী জানান, হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি হেফাজতে নেয়। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বরূপদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল কদর বলেন, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে এক নারী ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। খবর পাওয়ার পর তিনি মারধর না করে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এরপরও তাকে মারধর করা হয়। পরে সকালে তিনি ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পান।

চেয়ারম্যান বলেন, “এভাবে পিটুনি আমি সমর্থন করি না। অপরাধ করলে আইন তাকে শাস্তি দেবে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।”

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, চোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।