হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেনের, পাশে সৌদি

সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকার হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সব এলাকা ফিরে পেতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ইরানপন্থী হুতিরাও দেশের ভেতরে আরও এগিয়ে গেছে। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘিরে ফেলার খবরও পাওয়া গেছে।

ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বলেন, আজ থেকে দেশের বাকি অংশ পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে। পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

তবে এই অভিযান সহজ হবে না। সম্প্রতি হুতিদের হঠাৎ অভিযানে লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এই প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল হুতিরা কৌশলগত একটি সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই পথ তাইজ শহরকে সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সরকারি বাহিনী সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা দেয়।

তাইজ ও তার আশপাশে কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের লড়াইয়ে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকা দখল করে নিয়েছে। প্রধান সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে এবং থানাও দখল করেছে। সেখানে এখনো তুমুল সংঘর্ষ চলছে।

সৌদি আরব সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তারপরও সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবকেও বারবার লক্ষ্য করেছে। গতকাল রিয়াদের উপকণ্ঠে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার দাবি করেছে তারা।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে রিয়াদের উপকণ্ঠে এবং কুরাইশ এলাকায় সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।

হুতিরা আরও বলেছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে তাদের ওপর ৫০টি হামলা চালিয়েছে। এর জবাবেই জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা করা হয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সৌদি আরব আগে থেকেই চাপে ছিল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে। এখন হুতিদের মোকাবিলা করার নতুন চ্যালেঞ্জও যোগ হয়েছে।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান