‘নিরাপত্তা হুমকির’ ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্য থেকে বিমান ঘাঁটি সরানোর কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে সুনির্দিষ্ট ‘নিরাপত্তা হুমকির’ কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
 
সোমবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, আকস্মিকভাবে নয়, বরং ঘাঁটিতে হামলার তথ্য পেয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 
এর আগে রবিবার পেন্টাগনের নির্দেশনায় ঘাঁটিটি থেকে অন্তত এক ডজন বি-১বি কৌশলগত বোমারু বিমান ফের যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে উড়াল দেয়। 
 
বিমান প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার ধারণা আমরা এটা বলতে পারি। সেগুলো তো আর এমনি এমনি উড়ে যায়নি। কিছু সুনির্দিষ্ট হুমকি ছিল। শত্রুকে সুযোগ বা আনন্দ না দিয়ে আমরা বরং তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বিমানগুলো ফেলে রাখার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। সে কারণেই সেগুলোকে সাময়িকভাবে কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে সরানো হয়েছে।’
 
তিনি আরও দাবি করেন, হুমকির পেছনে কারা জড়িত তা ওয়াশিংটন জানে, যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম বা পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি।

লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু বিমান অভিযানের প্রধান ইউরোপীয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি ঘাঁটিটিকে ঘিরে ইরানের মদদপুষ্ট হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কা দেখা দেয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিমানঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরক পুঁতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছিল ব্রিটিশ পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের গাড়িতে পেট্রোল পাওয়া গেলেও বিস্ফোরক না মেলায় অভিযোগ ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়; ইরানও এসব অভিযোগ নাকচ করে। তবে এর কয়েক দিন পরই গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে বিমানঘাঁটিতে হামলার ছক তৈরির অভিযোগে সরাসরি গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। ওই ঘটনার পরই নিরাপত্তা বিবেচনায় বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় পেন্টাগন।
বিবিসি