পশ্চিমবঙ্গসহ তিন রাজ্যের পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন শুরু

কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বহুল আলোচিত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে টানা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এর আগে কেন্দ্রগুলোতে মক পোল সম্পন্ন করা হয়।

ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে রাজ্য পুলিশের সদস্যরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪১৯ জন এবং মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৬ জন।

ভোট শুরুর পর সকালে রেজিনগরের একটি ভোটকেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গিয়ে ভোট দেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র (এজেইউপি) প্রতিষ্ঠাতা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অন্যদিকে নন্দীগ্রামে সকালে ভোট প্রদান করেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তবে ভোট দেওয়ার পর নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিলন প্রধান অভিযোগ তোলেন, সোমবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় ভীতি প্রদর্শন চলছে এবং তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের হুমকি ও তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নন্দীগ্রাম আসনে চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। এতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হাসিরানী রথ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মোহাম্মদ এতেশামুল হক এবং কংগ্রেসের মিলন প্রধান। এই আসনে সিপিআই প্রার্থী করেছে শান্তি গোপাল গিরিকে এবং আইএসএফের হয়ে লড়ছেন আলী মোহাম্মদ সাবে মিরাজ খান। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করলেও পরবর্তীতে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন মমতা।

অন্যদিকে রেজিনগর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির শাখারভ সরকার, মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরী, এজেইউপি প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ, ঋতব্রত তৃণমূলের সফিউজ্জামান শেখ, কংগ্রেসের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি এবং সিপিআইএমের সৈয়দ আসাদ আলী।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইভাবে রেজিনগর ও নওদা দুই আসন থেকেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর; পরবর্তীতে নওদা আসন নিজের কাছে রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় এই দুটি কেন্দ্র শূন্য হয়।

নির্বাচনী লড়াই নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জয়ের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে দাবি করেছেন, দুটি আসনেই বিজেপি জয়লাভ করবে এবং নন্দীগ্রামে আগের চেয়ে বহুগুণ বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হবে।

পশ্চিমবঙ্গের এই দুটি আসন ছাড়াও আজ তামিলনাড়ুর মাদুরান্তাকম ও ধারাপুরম, পুডুচেরির থাট্টানচাভাদি বিধানসভা আসন এবং আসামের নওগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনেও ভোটগ্রহণ চলছে। আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) একযোগে সবগুলো আসনের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে।