প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে ইন্ডিয়া জোট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। 

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার হাতে এবং জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিয়ে বিরোধী দলের এমপিরা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। মিছিলে বাধা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেছে বিরোধী জোট। গত সপ্তাহে বৈঠকের পর থেকেই এই কৌশল ঠিক করতে দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছিলেন বিরোধী নেতারা। সাম্প্রতিক এই বিষয়টি সংবাদপত্রের শিরোনামে আসার পাশাপাশি জেন-জি যাদের প্রতিনিধিত্ব করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’—তাদেরও সমর্থন কুড়িয়েছে।

তবে ইন্ডিয়া জোটের আজকের এই মিছিলে অংশ নেয়নি জোটের দুই শরিক দল ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি (আপ)।

প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের পরিকল্পনা হলো, সংসদের শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত জনদৃষ্টিতে বিষয়টি সচল রাখতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।

কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি উভয়েই চায় আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্ধারিত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনায় থাকুক। তবে তাদের বর্তমান কৌশল হলো আগামী সংসদীয় অধিবেশন পর্যন্ত এই আন্দোলন ও গতিশীলতা বজায় রাখা।

এ বিষয়গুলো নিয়ে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল চূড়ান্ত করতে গত সোমবার এক বৈঠক করে কংগ্রেস। দলটি এখন নির্বাচন কমিশনকে ‘চিটিং কমিশন’ বা প্রতারক কমিশন বলে অভিহিত করছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে দলটির আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা হলো- আগামী ১০ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ব্লক স্তরে চালানো হবে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ প্রচারণা। এতে সাইকেল ও মোটরসাইকেল র‍্যালি, জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ এবং দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ। 

এরপর ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বুথ স্তরে প্রবীণ কংগ্রেস নেতাদের অংশগ্রহণে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ চৌপাল (জনসভা) অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে একটি বিশাল জনসভার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ২৫ ও ২৬ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আওতায় দিল্লির চারপাশ থেকে ছয়টি আলাদা র‍্যালি শুরু হবে। প্রতিটির নেতৃত্ব দেবেন ভিন্ন ভিন্ন নেতা। ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে এই সবকটি র‍্যালি এসে মিলবে দিল্লিতে।