ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্য করার অপরাধে সৌদি আরবের আদালত শ্রীলঙ্কান এক অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
২৪ বছর বয়সী ঐ শ্রীলঙ্কান শ্রমিকের নাম আনোজন সিভারাসা। রায়ের পর তার জীবন রক্ষায় এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল মিনতি ও ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে সিভারয়াসার পরিবার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আল-আহসা ফৌজদারি আদালত প্রাথমিকভাবে সাইবার অপরাধ আইনে আনোজনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউটরদের আবেদনের ভিত্তিতে আপিল আদালত সাইবার আইনের বদলে শরিয়া আইনে বিচার পরিচালনা করে তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।
২১ সেপ্টেম্বর আনোজনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে সরকারি উদ্যোগে রাজক্ষমা চাওয়ার আশ্বাস দেন এবং একই উদ্দেশ্যে সিনিয়র আইনজীবী উপুল কুমারাপ্পেরুমার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি আইনি দল সৌদি আরব সফর করছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে। সেখানে একজন হিন্দু দেবতা নিয়ে কটূক্তি করলে আনোজন জবাবে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে তামিল ভাষায় মন্তব্য করেন।
পরে ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি মুছে ফেললেও শ্রীলঙ্কা থেকে কিছু লোক তার সংস্থায় ইমেইল পাঠালে তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি পুলিশকে বিষয়টি জানায় এবং জুলাই মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আনোজনের সঙ্গে পরিবারের সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
আনোজনের দণ্ড মওকুফের জন্য বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারা যৌথভাবে আবেদন জানিয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কা সরকার কূটনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যালকোয়েস্ট এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অনলাইনের বাকস্বাধীনতার ওপর সৌদি সরকারের এমন কঠোর সাজা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আইওএম-এর মতে, সৌদি আরবে প্রায় ১ কোটি বিদেশী শ্রমিক কাজ করছেন, যারা ভাষাগত সমস্যা এবং আইনি সহায়তার অভাবে দেশটির বিচার ব্যবস্থায় তীব্র ঝুঁকিতে পড়েন।
সূত্র: বিবিসি