নাচোলের সিংরইল কালভার্টটি এখন মরণ ফাঁদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ভারী বর্ষণের ফলে রাস্তা ভেঙে পড়ায় একটি কালভার্ট মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কালভার্টটির অবস্থান নাচোল-ফতেপুর সড়কের সিংরইল গ্রামে যাওয়ার পথে। গত তিন-চার দিন থেকে কালভার্টটি দিয়ে মোটরসাইকেল, সাইকেল ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা। এ সড়ক দিয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান মল্লিকপুর হাটে যেতে হয় যাতায়াতকারীদের। তবে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নাচোল সদরে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীসহ পেশাজীবীরা।

সিংরইল গ্রামের মতিউর রহমান জানান, পাশের খাঁড়ির পানির তোড়ে কালভার্টের একপাশের রাস্তা ভেঙে পড়েছে। ফলে কালভার্টটি দিয়ে ভারী যানবাহনসহ অটোরিকশা ও অটোভ্যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এ সড়কের পাশে বসবাসকারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। নাচোল যেতে হলে এখন হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, এ সড়ক দিয়ে নাচোলবাসীকে যেমন ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদসহ মল্লিকপুর যেতে হয় তেমনি মল্লিকপুর-ফতেপুর-পাহাড়পুরবাসীদেরও এ সড়ক দিয়ে নাচোলে যেতে হয়। তবে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা। তিনি জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। 

উল্লেখ্য, গোপালপুর-সিংরইল সড়কটি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিএমডিএর তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়। সড়কটির গোপালপুর অংশের আধা কিলোমিটারের মধ্যে বেশ কয়েকটি কালভার্ট রয়েছে। সড়কটির পাশে একটি খাঁড়ি বয়ে গেছে। গত ও চলতি বছর ভারী বর্ষণের কারণে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটির এক অংশের সড়ক পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। আরেক অংশের সড়কও ভেঙে পড়ার উপক্রম। সচেতন এলাকাবাসী পথচারীদের সাবধান করতে লাল পতাকা টানিয়েছে। মোটরসাইকেল ও সাইকেলচালকদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হওয়ায় আমাদের কিছু করার নেই। 
এদিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তুপক্ষের নাচোল জোনের সহকারী প্রকৌশলী শাহ মন্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার ১টা ৪০ মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে, বিষয়টি জেনেছি। তবে ফান্ডে টাকা না থাকায় আপাতত কালভার্টটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। 

আরও পড়ুন: কেশবপুরে স্কুলছাত্রসহ ১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

বিষয়টি নিয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আপাতত জনসাধণের চলাচলের স্বার্থে আবর্জনা জাতীয় দ্রব্য ফেলে চলাচলের পথ সুগম করা হবে।'

ইত্তেফাক/নূহু