রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার এবং উপাচার্যের পিএস নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাদের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে জোরপূর্বক উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় উপাচার্যকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে উপাচার্যের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এরপর সেকশন অফিসার ও ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইনকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ ও সিসিটিভির যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাজমুল হোসাইন বলেন, সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে একদল লোক মিছিল নিয়ে জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে উপাচার্যকে গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্রে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।
নাজমুল হোসাইন আরও বলেন, আমি এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে। তার দাবি, পরে জোরপূর্বক তার কাছ থেকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।