জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন ওই আন্দোলনে শহীদ ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতিনিধি ও আহত জুলাই যোদ্ধারা। তাদের কেউ কেউ সংবিধানের প্রস্তাবনায় অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব দাবি উঠে আসে। তবে কমিটি জানিয়েছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি সংবিধানে থাকবে। এটি প্রস্তাবনায় না রেখে সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছে তারা।
বিকেলের এই মতবিনিময়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতিনিধি ও আহত জুলাই যোদ্ধাসহ মোট ৬৩ জন অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সভায় অংশ নিতে ৬৫ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের সবাই উপস্থিত না হলেও আমন্ত্রণ না পাওয়া আরও ১৪ জন মতবিনিময়ে অংশ নেন।
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ বক্তা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক সুরক্ষা, অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানান। পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, আহতদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জুলাই যোদ্ধারা যাতে আইনি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও দাবি ওঠে।
রুদ্ধদ্বার এই সভা শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চেয়েছেন। তাদের কেউ কেউ নির্দিষ্ট করে সংবিধানের প্রস্তাবনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন।
কমিটির অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা বলেছি, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নকালে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং শক্তি যেভাবে ঐকমত্য হয়েছে, সেভাবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আপনাদের প্রস্তাবনাটাও আমরা আজকে লিপিবদ্ধ করব।’
জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবেও সুরক্ষার বিষয়টি তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের জাতীয় ঘোষণাপত্রে সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টি কীভাবে থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঘোষণাপত্রে অনেক বিষয় রয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হলে সেখানে অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ অবশ্যই আসবে। তবে এটি সংবিধানের কোন জায়গায় থাকবে, তা ঘোষণাপত্রে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের সময় বিএনপি ইঙ্গিত দিয়েছিল, সংবিধানের তফসিলে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে অভ্যুত্থানের স্বীকৃতির পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যাবে বলে দলটি মত দিয়েছিল।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করছে বলেও জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নে কমিটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখন যদি কেউ দাবি করে যে নোট অব ডিসেন্ট ব্যতিরেকে বাস্তবায়নের জন্য, সে জায়গায় আমরা নাই। ঐকমত্য সেখানে হয়নি।’
এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিষয়টি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে প্রস্তাবও চাওয়া হচ্ছে। আইনজীবী, বিচারক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ও তাদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে রাখার পুরোনো বিধান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা রাখার বিধান ছিল। এ নিয়ে অতীতে নানা বিতর্ক হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিকল্পটি না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। দলটি এখনো সেই অবস্থানেই রয়েছে বলে জানান তিনি।