যে জার্সি ছিল স্বপ্ন, গর্ব আর জীবনের অংশ, সেই আকাশি-সাদা জার্সিতে আজই শেষবারের মতো মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার কয়েক ঘণ্টা আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার। বিদায়ের আগে মেসির কণ্ঠে কোনো আক্ষেপ নেই, বরং আছে তৃপ্তি, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি, কারণ আমি সবটুকু দিয়ে গেছি।’
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির ২১ বছরের পথচলার ইতি ঘটতে যাচ্ছে। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের অনুভূতির কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
মেসি বলেন, ‘সময়টা এসে গেছে। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, আমার গর্ব এবং আমার জীবন। আমাকে এতটা ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। তোমাদের খুব মিস করব।’
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেকের পর মেসি এখন পর্যন্ত খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ। গোল করেছেন ১২৫টি এবং অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৬টি। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ, গোল ও অ্যাসিস্ট—তিন ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসির। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। বিশ্বের মাত্র তিনজন ফুটবলারের একজন হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তিও গড়েছেন মেসি। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুললেও সেবার রানার্সআপ হয় দলটি। ২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলটি রানার্সআপ হয়েছে।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির সাফল্যের তালিকায় রয়েছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ ফিনালিসিমার শিরোপাও। বয়সভিত্তিক দলেও রয়েছে তার বড় অর্জন। ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালের অলিম্পিকে সোনার পদক জেতেন তিনি।
তাই বেনিনের বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য নিছক একটি প্রীতি ম্যাচ নয়। এটি জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার শেষ অধ্যায়েরও সাক্ষী হতে যাচ্ছে। প্রিয় তারকাকে বিদায় জানাতে মনুমেন্টালে জড়ো হবেন হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক। ম্যাচের আগে ও পরে মেসিকে ঘিরে রাখা হয়েছে নানা আয়োজন।