মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের চিরন্তন বৈরিতা চিরচেনা, কিন্তু সেই ভৌগোলিক ও প্রতিযোগিতামূলক সীমানা বহু আগেই মুছে দিয়েছিল লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের অকৃত্রিম হৃদ্যতা। এবার আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির বিদায়ী মঞ্চ প্রস্তুত হতেই আবেগ সামলাতে পারলেন না প্রিয় এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামার ঐতিহাসিক ক্ষণে সাবেক ক্লাব সতীর্থ ও অন্তরঙ্গ বন্ধুকে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় সিক্ত করে এক দীর্ঘ ও মর্মস্পর্শী বার্তা পাঠিয়েছেন নেইমার।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক ইতি টানছেন লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসের এই ঐতিহাসিক ক্ষণে নেইমার তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে অতীতের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ফুটবলে মেসির অবিস্মরণীয় অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিজের বার্তায় ৩৪ বছর বয়সী নেইমার লেখেন, ‘যারা ফুটবল ভালোবাসে, তারা এতগুলো বছর ধরে তোমার পায়ের জাদু উপভোগ করেছে… আজ তোমার নিজের দেশ ও দলের জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচ, আশা করি এর প্রতিটি সেকেন্ড তুমি প্রাণভরে উপভোগ করবে।’
মেসির প্রতি ব্যক্তিগত ঋণ স্বীকার করে নেইমার আরও উল্লেখ করেন, আর্জেন্টাইন এই জাদুকর তাকে ফুটবলকে আরও গভীরভাবে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য যা কিছু করেছ তার জন্য পুরো বিশ্বই তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য ধন্যবাদ। তোমার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যেমন সম্মানের ছিল, ঠিক তেমনি তোমার পাশে থেকে একই জার্সিতে ইতিহাস রচনা করাটা ছিল আমার জীবনের অনেক বড় এক প্রাপ্তি। ধন্যবাদ লিও।’
বার্সেলোনার স্বর্ণালী অধ্যায়ে ক্যাম্প ন্যুতে একসঙ্গে আক্রমণভাগ মাতিয়েছেন মেসি ও নেইমার। পরবর্তীতে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়েও (পিএসজি) একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিয়েছিলেন তারা। জাতীয় দলের জার্সিতে লাতিন আমেরিকার সুপার ক্লাসিকোতে একে অপরের প্রবল প্রতিপক্ষ হলেও মাঠের বাইরে তাদের মধ্যকার বন্ধুত্বে কখনো এতটুকু চিড় ধরেনি।
বেনিনের বিপক্ষে এই স্মরণীয় ম্যাচটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির ক্যারিয়ারের ২০৮তম এবং শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর আগে বর্ণাঢ্য এই যাত্রায় দেশের হয়ে ২০৭টি ম্যাচে মাঠে নেমে রেকর্ড ১২৫টি গোলের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা। কিংবদন্তির এমন প্রস্থানে ফুটবল দুনিয়ার কোটি কোটি ভক্তের পাশাপাশি বন্ধু নেইমারের এই নিবেদন পুরো বিদায়ী মুহূর্তকে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছে।