বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ২

রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীতে বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া ২৬ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।ভুক্তভোগীর নাম মনোয়ার হোসেন মনা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- নগরীর বড়কুঠির শাহিন রেজা ইমরানের স্ত্রী ও মৃত মুসলিম উদ্দিনের মেয়ে, ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনির ভাড়া বাসিন্দা সুলতানা (৩৯) ও পুঠিয়ার বানেশ্বর থান্দারপাড়ার মৃত কছের মণ্ডলের ছেলে, তেরখাদিয়া ডাবতলার ভাড়া বাসিন্দা আসলাম আলী (৫৫)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে ২ মাস আগে মোবাইলে সুলতানার পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৪ অক্টোবর বিকেলে সুলতানা তাকে বাসায় দাওয়াত করেন। বিকেলে ভুক্তভোগী সুলতানার ভাড়া বাসায় যাওয়া মাত্র অপর ২ ব্যক্তি দরজা বন্ধ করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। তারা দু’জন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভুক্তভোগীর কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। 

ভুক্তভোগী টাকা দিতে না চাইলে তাকে মারধরে জখম এবং ভুক্তভোগীকে পরিবারে ফোন করে নগদ হিসাবে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিকাশ হিসাবে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, সর্বমোট ২৬ হাজার ৭০০ টাকা আনতে বাধ্য করে। পরে আসামিরা এজেন্টের মাধ্যমে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা তুলে নেয় আসামিরা। আসামিদের আরও টাকা দাবি ভুক্তভোগী অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয় দেখিয়ে ১০০ টাকার ৩টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। 

ঘটনার পর ভুক্তভোগী রাজপাড়া থানায় মামলা করলে ৫ অক্টোবর বিকেলে রাজপাড়া থানা পুলিশ সুলতানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকেসহ আসলাম আলীকে গ্রেপ্তার, নগদ টাকা, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে। আসামি আসলামের বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।