মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী প্রয়োজনে সব উপায়ে সৌদি আরবকে সমর্থন দিতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জাহেদ মাহমুদ। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনীতিকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক জাহেদ মাহমুদ এই কথা জানান।
হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হুমকির মুখে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের রিয়াদ সফর প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত এই সামরিক কর্মকর্তা জানান, এটি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্য গঠিত ‘মক্কা চুক্তির’ একটি বড় পরীক্ষা। মূলত আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতেই এই জোট গঠন করা হয়েছিল।
জাহেদ মাহমুদ সামরিক হস্তক্ষেপকে জোটের একমাত্র দিক হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সামরিক পদক্ষেপের আগে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা হওয়া উচিত। তবে সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘিত হলে এবং সমর্থনের সঠিক সময় এসেছে বলে মনে করলে পাকিস্তান ‘সর্বাত্মক উপায়ে’ রিয়াদকে সহায়তা করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানসমূহের সুরক্ষা দেওয়া পাকিস্তানের জনগণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই মক্কা চুক্তিটি মূলত দুই দেশের কয়েক দশকের বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সৌদি আরবের প্রতি প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার পাশাপাশি পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নিজেদের কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা বজায় রাখতে সক্ষম। ইসলামাবাদের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় সহযোগীদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া