চুয়াডাঙ্গায় জব্দ ৯১২ বস্তা সার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা অবৈধ ৯১২ বস্তা সরকারি রাসায়নিক সারের নিলাম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তিনজন ডিলারে কাছে ১১ লাখ টাকার মূল্যের সার মাত্র ৬ লাখ টাকায় মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় এসব সার নিলাম বিক্রি করা হয়। পরে বুধবার বিষয়টি সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হলে থানার ওসি সোলায়মান শেখ জানান, নিলামে সারের মূল্য কম হওয়ায় আবার পুন:নিলামের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ দিকে নিলামের ডাকের পর বিএডিসির আন্দুলবাড়িয়া সার ও বীজ ডিলার শ্যামল পুলিশের নির্দেশ পেয়ে নিয়ে যাওয়া সার দুপুর থেকে থানাতে ফেরত পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি বলছে এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা এবং পুলিশ এককভাবে এভাবে সার নিলামে বিক্রিও করতে পারে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এনএসআইয়ের দেওয়া গোপন তথ্যে গত ২৫ সেপ্টেম্বর জীবননগর শহরের একটি সারের দোকান হতে ৪০০ বস্তা ও পরের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ হাসাদাহের একটি সারের দোকান হতে অবৈধভাবে মজুদ রাখা সরকারি ৫১২ বস্তা সার জব্দ করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর জব্দ করা এ সারের পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা চেয়ে পুলিশ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করে। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল ৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সার স্থানীয় একজন সার ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমাদানের নির্দেশনা দেন। পুলিশের পক্ষ হতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে অবগত করা হয় ২ সেপ্টেম্বর এ সার নিলামে বিক্রি করা হবে; কিন্তু অদৃশ্য কারণে ওই দিন এ সার বিক্রি করা হয়নি।

পরে গত মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ বিএডিসির তিনজন সার ডিলারকে ডেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে রেট কোটেশনের মাধ্যমে ওই তিনজন সার ডিলারের নিকট ১১ লাখ ৪ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের ৯১২ বস্তা ডিএপি, টিএসটি, এমওপি ও ইউরিয়া সার নাম মাত্র মূল্যে ৬ লাখ ৩৩হাজার ৯৩০ টাকায় বিক্রি করে।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন,

জব্দ করা সার নিলাম দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। কৃষি বিভাগ বা মনিটরিং কমিটিকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে ডিলারদের ওই সার নিয়ে কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রি করার কথা। গত মঙ্গলবার থানা-পুলিশ এই নিলাম পরিচালনা করলেও আমাদের জানানো হয়নি। আজ (বুধবার) সকালে ওসি সোলাইমান শেখ যোগাযোগ করলে আমি সারগুলো উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার রি-টেন্ডার করার কথা বলেছি।

অভিযোগের বিষয়ে জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, সার নিলামের বিষয়টিতে কোনো অনিয়ম হয়নি, এটি আদালতের নির্দেশনায় সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অনিয়মের তথ্য উঠে এলে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি সামনে আসলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুনরায় রি-টেন্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।