মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের ‘শ্রীনগর শাখা’ থেকে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের সাবেক দুই ম্যানেজারসহ আরও ৫ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া। গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে দুনীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্যাংকের সাবেক দুই ম্যানেজারসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার। এর আগে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুল হোতা ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) মো. শরিফুজ্জামান সোহাগকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মোট ৬ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে দুদকের তদন্তে।
অভিযুক্তদের ব্যাংকের স্ব-স্ব পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়া পাঁচজন হলেন, অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার সাবেক ম্যানেজার মো. রেজাউল হক, মো. শরিফ উদ্দিন, অফিসার ক্যাশ জিন্নাহ হোসেন, দুইজন প্রহরী রঞ্জু আহমেদ ও আব্দুল হাই।
তারা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে শ্রীনগর থানাও ওসি মো. জুয়েল মিয়া ইত্তেফাক ডিজিটালকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যাংকের একাধিক সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুদকের সহকারী পরিচালক মাহাথির মুহাম্মদ সামীর উপস্থিতে ৩ সদস্যের একটি টিম ব্যাংকের ভেতরে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সাক্ষাতকার নেন। এই সময় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা দুদকের কাছে প্রমাণপত্রসহ টাকা খোয়া যাওয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এদের সাক্ষাতকারে ব্যাংকের টাকা লোপাটের ঘটনায় উল্লেখিত ৬ বিরুদ্ধে নানা তথ্য প্রমাণ তুলে ধরেন গ্রাহকরা। এরপরই বুধবার আরও ৫ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ব্যাংকে ম্যানেজার শরিফ উদ্দিনকে গত ৫ আগস্ট সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার স্থানে নারায়ণগঞ্জ থেকে অগ্রণী ব্যাংকের গোলাম মঈন উদ্দিনকে শ্রীনগর শাখার ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ব্যাংকের প্রধান ফটকে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয় বুধ ও বৃহস্পতিবার দুইদিন ব্যাংকে আসবেন দুদকের একটি দল। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করবেন বলে নোটিশে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। পরের দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাকি গ্রাহকদের সাক্ষাত গ্রহণ করা হবে।
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান ইত্তেফাক ডিজিটালকে জানান, দুদকের ৩ সদস্যে একটি টিম বুধবার ব্যাংক পরিদর্শনে আসেন। তারা সকাল থেকে গ্রাহকদের সাক্ষাতকার নিয়েছেন। গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুদক আরও ৫ জনকে (বুধবার) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি জানাজানি হলে ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) মো. শরিফুজ্জামান আত্মগোপন করেন। এরপর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত গ্রাহক ব্যাংকের সামনে ভিড় করেন। তারা টানা বেশ কয়েকদিন ব্যাংকের সামনে হাজির হয়ে বিক্ষোভ করেন। ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগী গ্রাহক অভিযোগ দিয়েছেন। এসব অভিযোগে এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত (জনপ্রতি) খোয়া গিয়েছে এমন দাবি করেছেন গ্রাহকরা। অভিযোগের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীরা ধারণা করা করছেন এই টাকার পরিমাণ ২৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ঘটনায় দুদক মামলা দায়ের করে। মামলার পরে বুধবার প্রথমবারের শ্রীনগরে ব্যাংক পরিদর্শনের আসে দুদকের টিম।