আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটানা ৭দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সব ধরণের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ফলে এই ক’দিন বন্দর দিয়ে কোনো ধরণের পণ্য পরিবহন করা হবে না। বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন বরাবর পত্রের মাধ্যমে ভারতের হিলি এক্সপোটার্স এন্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস এসোসিয়েশন বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে। ফলে পাসপোর্ট যাত্রীরা বৈধ ভিসা নিয়ে চেকপোস্ট ব্যবহার করে এই দুই দেশে আসা-যাওয়া করেন।
হিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইসলাম শাহীন বলেন, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। এই কারণে ভারতের ব্যবসায়ীরা সেই দেশের বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে ৭ দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরণের পণ্য আমদানি-রপ্তানি পরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে আগামী ১৭-২২ অক্টোম্বর পর্যন্ত এই ৭দিন বন্দরের মাধ্যমে সকল ধরণের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিষয়টি তারা আমাদের পত্র দিয়ে অফিসিয়ালভাবে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বাংলাদেশ অংশের বন্দর সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি পত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আগামী ২৪ অক্টোম্বর থেকে আবারও হিলি বন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে যেকোনো উৎসব বা সরকারি ছুটিতেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে। ফলে সপ্তাহের ৭ দিনই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই চেকপোস্ট ব্যবহার করে বৈধ পাসপোর্ট-ভিসাধারী যেকোনো যাত্রী বাংলাদেশ ও ভারতে যাতায়াত করেন। সরকারের সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দায়িত্ব পালন করছি। তাই স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের সঙ্গে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপারে কোন সম্পর্ক নাই।
হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, পূজার সরকারি ছুটির দিন ছাড়া হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। ভারতের ব্যবসায়ীদের ছুটির সঙ্গে হিলি কাস্টমসের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই কাস্টমস অফিস খোলা থাকবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে সরকারি শুল্ককর পরিশোধ করে বন্দর থেকে তাদের পণ্যের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।