কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ প্রবেশে ‘নিরাপদ’ নৌপথ নির্ধারণে ইরান ও ওমান ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে বাঘেই জানান, নির্ধারণ করা এই নৌপথের ভৌগোলিক তথ্য কীভাবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে জানানো হবে সে বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারে ইরান ও ওমানের ধাপে ধাপে তৈরি কাঠামোর ভিত্তিতে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হলো। এর আগে আগস্টে দুই দেশ একটি অস্থায়ী নৌপথ তৈরি, মাইন অপসারণ এবং তথ্য শেয়ারিং নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছিল।
তবে এই সমঝোতার অর্থ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া বা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। গত ২৫ আগস্ট ওমানের সঙ্গে যৌথ কাঠামোর কথা জানানো হলে পরের দিন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি নিশ্চিত করেন, সাময়িক পথটি সাত মাইল প্রশস্ত হবে যার প্রবেশদ্বার থাকবে ইরানের জলসীমায়।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরবর্তীতে জানান, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা ইসলামাবাদের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান অধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নকদি জানান, তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ নৌপথগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ওমান উপকূলের দক্ষিণ অঞ্চলের বিকল্প নৌপথের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, পাথর ফাটিয়ে তৈরি এসব পথ দিয়ে ছোট নৌকার মাধ্যমে তেল পাচার করা হচ্ছে। আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার মার্কিন দাবিও তিনি নাকচ করে দেন।
সূত্র: গালফ নিউজ