৮ মাস পর উৎপাদনে ফিরে দুদিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

তীব্র গ্যাস সংকটে দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুদিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের বৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)।
 
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার গভীর রাতে কারখানায় পরীক্ষামূলকভাবে সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় কারখানা অচল থাকায় বুধবার রাতে বয়লার প্ল্যান্টে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি সৃষ্টি হয়। অবশ্য কারখানার অন্যান্য ইউনিট সচল রয়েছে এবং উৎপাদন শুরুর এই দুই দিনে মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদিত হয়েছে।

যমুনা সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতে প্রকৌশলীরা দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ত্রুটি সারিয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যেই কারখানাটি আবারও পুরোদমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গ্যাস সংকট ও নানা কারিগরি জটিলতায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লে উৎপাদন শুরু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাসের তীব্র সংকটে আবারও কারখানাটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারখানায় দীর্ঘ আট মাস পর গত ২০ সেপ্টেম্বর পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর কারিগরি প্রস্তুতি শেষে সোমবার ভোররাতে উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি।

উল্লেখ্য, বিসিআইসির তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়। কারখানাটি পুরোপুরি সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন সম্ভব হয়, যা থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা আসে। বিপরীতে কারখানা বন্ধ থাকলেও প্ল্যান্ট সচল রাখার ন্যূনতম প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে শুধু গ্যাস বিল বাবদই প্রায় ৬ কোটি টাকা গচ্চা যায়।