পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফাটল পিলারে: ছাগলনাইয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর ক্লাস

দেয়াল ও পিলারে অসংখ্য ফাটল, ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আবার কোথাও বেরিয়ে এসেছে ভেতরের ইটের গাঁথুনি। এমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পাঠ নিচ্ছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ছলেমা নজির উচ্চবিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টি এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন শতাধিক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় মূল ভবনটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আগে একাধিকবার ক্লাস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহতও হয়েছেন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মনে সারাক্ষণ আতঙ্ক কাজ করে। শিক্ষকদেরও ক্লাসে পাঠদান করাতে হয় চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলে, ক্লাস করার সময় চারপাশের দেয়াল ও ছাদের অবস্থা দেখে ভয়ে থাকি। ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
 
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাহা বিনতে নুর বলে, পুরোনো ভবনের ছাদ থেকে প্রায়ই পলেস্তারা ঝরে পড়ে। নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য তারা দ্রুত একটি নতুন ভবনের দরকার।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মান্নান জানান, অতীতে পলেস্তারা পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হওয়ার নজির রয়েছে। বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে ক্লাস নিতে হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সংকট চলাকালে বিকল্প কোনো নিরাপদ স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহাদুর হোসেন বলেন, ভবনের অবস্থা এতটাই নাজুক যে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমাদের বিদ্যালয়টিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার সময় বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। একটি নতুন ভবনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, ছলেমা নজির উচ্চবিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।