কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আশিকুল্লাহকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি মালিথাপাড়া এলাকার ‘মারকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায়’ ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত আশিকুল্লাহ মারকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
স্থানীয় সূত্র জানায় যায়, বুধবার রাতে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহ ওই ছাত্রকে বলাৎকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে। বিষয়টি সকালে শিক্ষার্থী তার পরিবারকে জানালে খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে অবরুদ্ধ করে।
অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বাড়ি যশোর জেলায় এবং তার শ্বশুরবাড়ি মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটি গ্রামে।
এদিকে সকালে ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজিত জনতা মব সৃষ্টি করে তাকে মারধরের চেষ্টা করে। এতে পুলিশ বাধা দিলে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রিন্সিপাল আশিকুল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের একাধিক অভিযোগ ছিল।
ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বলেন, লোকমুখে জানতে পারি প্রিন্সিপাল মাঝেমধ্যেই আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতেন। ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমাকে সব জানায়। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই এবং অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসার সময় স্থানীয়রা মব করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়। এতে আমি সহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে আমরা অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে এসেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।