ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে মেক্সিকো উপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দর ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪২ ডলারে উঠেছে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার নির্দেশ পেয়েছে—এমন খবরের পর তেলের দাম আরো বাড়ে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে হামলা হতে পারে। সম্ভাব্য অভিযানে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প জাহাজ চলাচলের পথও শিগগির বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের ‘বৈধ দাবি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

একই সময়ে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরে তেল ও গ্যাস উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে। মার্কিন মেরিন মিনারেলস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এমএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৯ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মোট উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ।

শেল পাঁচটি স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ করেছে। শেভরনও চারটি অফশোর স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।